অবৈধ আয়ধারীদের কাছে এনবিআর কম যায়

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » অবৈধ আয়ধারীদের কাছে এনবিআর কম যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বৈধ আয় যারা করেন তাদের ওপর বেশি ফোকাস করে। অবৈধ আয়ধারীদের কাছে এনবিআর কম যায়।দেশে বিত্তশালী বেড়েছে অনেক। কিন্তু তাদের মধ্যে কর দেওয়ার মনোভাব এখনো তৈরি হয়নি। করদাতাদের মনে করতে হবে কর দিলে নিজেদেরই সম্মান বাড়ে।

বুধবার এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে রাজস্ব সংলাপে দেশের শীর্ষ সাহিত্যিক ও অভিনয় শিল্পীদের বক্তব্যে এসব উঠে আসে।

এনবিআরের আমন্ত্রণে দেশের লেখক-সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীরা অংশ নেন। প্রথমবারের মতো এমন আয়োজনে অনেকেই এনবিআরকে ধন্যবাদ জানান।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

রাজস্ব সংলাপে অংশ নেওয়া অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, মূসক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আমার কথা হলো, সরকার নতুন একটি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংসদে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করেছিল কিনা। ভ্যাটের হার কত শতাংশ হবে তা সংসদে উত্থাপিত হয়েছে কিনা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ বিষয়টি জরুরি।

তিনি বলেন, আমি যা দিচ্ছি তা কীভাবে ব্যয় হচ্ছে সেটা বড় বিষয়। করের বোঝা না বাড়িয়ে আওতা বাড়ানো দরকার। ৮ লাখ ৪০ হাজার নিবন্ধিত ব্যবসায়ীর মধ্যে ভ্যাট নিবন্ধন রয়েছে মাত্র ৩২ হাজার ব্যবসায়ীর।

অর্থমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী ভ্যাট নিয়ে ‘চাপাচাপি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। গণতান্ত্রিক দেশে অগণতান্ত্রিক কথাবার্তা বন্ধ করতে হবে। বাজেট বড় হলেই হয় না, বিষয় হচ্ছে বাজেট জনবান্ধব কিনা। রাস্তায় ঘুমানো মানুষের জন্য বাজেটে কিছু আছে কিনা?

কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, যারা বৈধ আয় করেন তাদের ওপর রাজস্ব বোর্ড বেশি ফোকাস করে থাকে। আর যারা অবৈধ আয় করে তাদের কাছে এনবিআর কম যায়। এদিকে এনবিআরের নজর দেওয়া দরকার। করদাতাদের মনে করতে হবে কর দিলে আমাদেরই সম্মান বাড়ে।

লেখকদেরও সেরা করদাতার পুরস্কারে অন্তর্ভুক্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অভিনয় কিংবা সঙ্গীতশিল্পীর মতো লেখকদের জন্য সেরা করদাতা পুরস্কারের ক্যাটাগারি থাকা উচিত।

পাঠ্যপুস্তকে করের বিষয় অন্তর্ভুক্তের বিষয়ে তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকে কর বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা যায় কিনা এ বিষয়ে ভাবা উচিত। এটা সত্য যে, ধনীরাই সবচেয়ে বেশি কর ফাঁকি দেয়। এতে সন্দেহ নেই। তবে সরকারি অর্থ অপচয় করা যাবে না।

এ সময়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থীদের কর বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে ইতিমধ্যে কর শিক্ষণ ফোরাম গঠন করেছি।

কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে বিত্তশালী বেড়েছে অনেক। কিন্তু তাদের মধ্যে কর দেওয়ার মনোভাব এখনো তৈরি হয়নি। আশার কথা হচ্ছে, এনবিআর আগের চেয়ে অনেক সক্রিয়। এনবিআর সম্পর্কে মানুষের ইতিবাচক ধারণা হচ্ছে। অনেক ভীতি কমেছে। এটা ধরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সোনা আমদানির বিষয়ে আইন হওয়া দরকার। এজন্য সবার সঙ্গে বসা উচিত।

অভিনেত্রী সুর্বণা মুস্তাফা বলেন, করের আওতা বৃদ্ধি করতে ও রাজস্বের পরিমাণ বাড়াতে মাইন্ড সেটআপ পরিবর্তন করা দরকার। বিশেষ করে যারা রাজস্ব আদায় করে তাদের অনেক বন্ধুসুলভ হতে হবে।

কবি নাসির উদ্দিন বলেন, যারা করের আওতায় পড়েন তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট করের বিধান করা যেতে পারে। এতে করের আওতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

কবি আসলাম সানি বলেন, কর আদায় ও করের টাকা ব্যয়ে স্বচ্ছতা থাকা দরকার। এনবিআরের বিভিন্ন দিবসে সংস্কৃতিকর্মীদের আরো সম্পৃক্ততা থাকা দরকার।

কবি কাজী রোজি এমপি বলেন, কর আদায়ের ক্ষেত্রে আমি বলব, যা নাও ন্যায়ভাবে নাও, অন্যায়ভাবে নিও না। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমি কথা দিলাম যা নেব ন্যায়ভাবে নেব, আপনি শুধু সত্যিকার হিসাব দেবেন।

অভিনেতা শহিদুল আলম সাচ্চু বলেন, করের ক্ষেত্রে বলব কিছু শব্দ সহজ করা দরকার। এক্ষেত্রে স্লোগানকে আরো সহজ করা দরকার।

শামস সুমন বলেন, কর একটি জটিল বিষয়। তাই করবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে কর প্রক্রিয়া আরো সহজ করা দরকার। অভিনয় শিল্পীদের মধ্যে ৫০ শতাংশ শিল্পী আয়কর দেয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের সম্মানী ১৫ হাজার টাকার ওপর হলে অগ্রিম আয়কর কেটে নেয়। কিন্তু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো কাগজপত্র দিতে পারে না। তাদের অভিযোগ, এনবিআর থেকে সহজে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পাওয়া যায় না। ফলে কর দেওয়া সত্ত্বেও পরবর্তী সময়ে হয়রানিতে পড়তে হয়।

কথাসাহিত্যিক মইনুল হাসান সাবের বলেন, নতুন ভ্যাট আইন দেশের জন্য সুফল বনে আনবে। অনেক ব্যবসা হবে। এটা যে কেন ব্যবসায়ীরা মানছে না বুঝতে পারছি না। দেশে বর্তমানে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়াটা বুদ্ধিমান মনে করা হয়। এ প্রবণতার মধ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে।

ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বাড়িভাড়া নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চেকের মাধ্যমে বাড়িভাড়া নেওয়ার কথা থাকলেও কর ফাঁকি দিতে বাড়িওয়ালারা বর্তমানে কিছু টাকা চেকের মাধ্যমে ও কিছু টাকা নগদ নিয়ে থাকে।

কবি রুবী রহমান বলেন, আমরা যা পাওয়াও দরকার তা পাচ্ছি না। সম্প্রতি দুটি মেয়ে ধর্ষণ হলো আমরা সরকারের বিলম্ব পদক্ষেপ দেখতে পেলাম। আমাদের মেয়েরা নির্যাতন কিংবা অত্যাচারের শিকার হোক, এটা চাই না।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ঘুমানোর সময় নেই, এখন কাজের সময়। ২০১৫ সাল থেকে রাজস্ব সংলাপ শুরু করেছিলাম। আজ বাংলাদেশের কবি, সাহিত্যিকসহ সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে সংলাপ করলাম। এর সঙ্গে ভ্যাট বিতর্কের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে সৎ মানসিকতা তৈরির লক্ষ্যে নতুন ভ্যাট ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। আমরা চাই জেলা, উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত মানুষ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হোক। যারা অবৈধ আয় করছেন তাদের ওপর জোড় দিচ্ছি। মুদ্রাপাচারের বিষয়ে এনবিআর কাজ করে যাচ্ছে। কর সচেতনতা বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

November ২০২০
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০