দু’মাসে পাচার ৯ শতাধিক রোহিঙ্গা নারী ও শিশু

প্রচ্ছদ » সেরা সংবাদ » দু’মাসে পাচার ৯ শতাধিক রোহিঙ্গা নারী ও শিশু

পুঁজিবাজার রিপোর্ট ডেস্ক: কক্সবাজারের কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রুশনা শীল ও রাজকুমারী শিল প্রায় দুই মাস ধরে নিখোঁজ। তারা পাচারের শিকার হয়েছেন। রোহিঙ্গা দালালরাই ক্যাম্প থেকে নানা কৌশলে তাদের নিয়ে যায়। শুধু এ দু’জনই নন, দুই মাসে অন্তত দুই হাজার রোহিঙ্গা পাচারের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে ৯ শতাধিক।

কক্সবাজারের বেসরকারি সংস্থা হেল্প কক্সবাজার এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সূত্রগুলো এ তথ্য জানায়।

জানা যায়, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিংঙ্গা ক্যাম্প থেকে নারী ও শিশুদের পাচার করা হচ্ছে। এ পাচার ঠেকাতে প্রতিদিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্প এলাকায় মাইকিং করা হয়। এতে অপরিচিত কোনো লোকের মাধ্যমে ক্যাম্প ছেড়ে অন্যত্র না যেতে সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধান পেলে থানা বা ক্যাম্পে জানানোর কথা বলা হচ্ছে।
হেল্প কক্সবাজারের কর্মকর্তা মো. হুসাইন সিকদার বলেন, দুই মাসে পাচার হওয়া প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে ৬০০ নারী ও ৩০০’র বেশি শিশু রয়েছে। অন্যদিকে পাচারের হাত থেকে প্রায় ৬০০ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

হেল্প কক্সবাজার জানায়, উখিয়া ও টেকনাফে তাদের ৯টি ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পে হারিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের স্বজনরা অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। হেল্প কক্সবাজরের কর্মকর্তা মো. হুসাইন সিকদার বলেন, শুরুর দিকে এ অভিযোগ বেশি থাকলেও এখন তা অনেকটাই কমে এসেছে। বিশেষ করে সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেয়ার পর নিখোঁজের সংখ্যা অনেকাংশেই কমে গেছে। কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন রুবিনা, ইয়াসমিন আরা ও মিনারা নামের তিন নারী। তাদের মো. ইউসুফ ও ঈসমাইল নামে দুই রোহিঙ্গা দালাল পাচার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভিকটিমের স্বজনরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, শিশু ও নারী পাচার রুখতে কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে ২৭টি তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। কোথাও কোথাও পুলিশ, কোথাও সেনাবাহিনী আবার কোথাও বিজিবি চৌকিতে দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে দালাল চক্রের নানা প্রতারণার অভিযোগে অন্তত ২৫০ জনকে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। হেল্পের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, অনেক সময় বাসাবাড়িতে কাজের নামে রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের পাচার করা হচ্ছে।

কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ রাজকুমারীর স্বজন সরস্বতী শীল যুগান্তরকে বলেন, রুশনা ও রাজকুমারীর সঙ্গে এ ক্যাম্পে প্রায় দুই মাস আগে আসি। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের দেখা মিলছে না। রাজকুমারীর পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। তাই হারিয়ে গেলেও তার খোঁজ নেয়ার কেউ নেই।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় প্রতিদিন ঘটছে নারী ও শিশু নিখোঁজের ঘটনা। অনেক পরিবার আমাদের বিষয়টি জানাচ্ছে। আমারা তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে টেকনাফ থানার ওসি মাঈনউদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নানা প্রলোভনে অসাধু চক্র তাদের পাচার করছে। এ ধরনের ঘটনা আগে অহরহ ঘটলেও এখন অনেকটা কমে এসেছে।

তিনি জানান, সন্দেহভাজন কোনো লোককে ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেলে দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

কক্সবাজারের ডিসি মো. আলী হোসেন বলেন, রোহিঙ্গারা যেন কক্সবাজার থেকে দেশের কোথাও পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য আমাদের ১১টি টিম কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

November ২০২০
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০