প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় ১ লাখ শ্রমিককে আনা হবে

প্রচ্ছদ » জাতীয় » প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় ১ লাখ শ্রমিককে আনা হবে

পুঁজিবাজার রিপোর্ট ডেস্ক : প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় ১ লাখ শ্রমিককে আনা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু।

তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য সরকার আইনের আওতায় তহবিল গঠন করে বিশ্বে নজির স্থাপন করেছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় ১ লাখ শ্রমিককে প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিলেই আগামী ১ মে শ্রমিকদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ডের ঘোষণা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) আয়োজিত ‘কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বিষয়ে জাতীয় মানদণ্ড’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রভিডেন্ট ফান্ডে কোনো শ্রমিক যদি প্রতি মাসে ১০০ টাকা দেয়, তাহলে সরকার থেকে সেই টাকার সঙ্গে আরো ১০০ টাকা দেওয়া হবে। প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা করে দেওয়া যাবে। এটি যথাক্রমে ১০, ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদি হবে। প্রাথমিকভাবে ১ লাখ শ্রমিককে এ ফান্ডের আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ক ফাইলপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। শ্রমিকরা এ টাকা সুদসহ তুলে নিতে পারবে। এ ছাড়া কোনো শ্রমিক যদি মারা যান তাহলে সুদসহ মোট টাকা এবং অতিরিক্ত আরো ২ লাখ টাকা দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক দুর্ঘটনায় আহত কিংবা নিহত হলে সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। তবে সরকার ক্ষতিপূরণের আইন বিধি তৈরি করেছে। যাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক দুর্ঘটনায় নিহত কিংবা আহত হলে ওই সব প্রতিষ্ঠানই তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।’

শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও তাদের ক্ষয়ক্ষতি যথাযথ প্রদানে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রম আইনে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ লাখ টাকা প্রদানের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এটি হঠাৎ করে ১৫ লাখ টাকা করা সম্ভব নয়। তবে পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো পেশাগত রোগের চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক মানের দুটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। নারী শ্রমিকদের আবাসন সুবিধা প্রদানের জন্য নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে দুটি ডরমিটরি নির্মাণ করা হচ্ছে। গাজীপুরেও একটি ডরমিটরি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ কেন ভিক্ষা করে আনতে হবে। শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ অবশ্যই যথাযথ পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিকবান্ধব সরকার নিশ্চিত করতে হবে। সরকার যদি শুধু মালিকপক্ষের হয় তাহলে ওটা হবে শ্রমিকের জন্য আত্মঘাতী।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি প্রতিবছর ২ হাজার ৪১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় তাহলে দেশের সকল শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব।’

বক্তারা বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত ও নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বিষয়ে জাতীয় মানদণ্ডবিষয়ক একটি আইন জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাজনিত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১ লাখ নয় তা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ১৫ লাখ টাকা করা হোক।’

সভায় দুর্ঘটনায় হতাহত শ্রমিকদের পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টিও ক্ষতিপূরণের আওতায় আনতে হবেসহ আট দফা সুপারিশমালা উত্থাপন করা হয়।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আলহাজ্জব শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সুপারিশ উপস্থাপনা ও কর্মপরিকল্পনা নিধারণ বক্তব্য রাখেন বিলস এর নিবার্হী কর্মকর্তা সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ, বিলসের উপদেষ্টা রায় রমেশ চন্দ্র, অ্যাডভোকেসি অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম,বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো, নুরুল হক, ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রাজ্জাক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

November ২০২০
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০