বাজারের টানা দরপতন : আবারো রাজপথে বিনিয়োগকারীরা

প্রচ্ছদ » Breaking News || Slider || আজকের সংবাদ » বাজারের টানা দরপতন : আবারো রাজপথে বিনিয়োগকারীরা

dsc-1পুঁজিবাজার রিপোর্ট ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতি, ঋণ আমানতের অনুপাত (এডিআর) কমানো এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় নিয়ে চলা বিভিন্ন গুঞ্জনে দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতন দেখা দিয়েছে।

এর প্রতিবাদে সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে পুলিশের বাধার কারণে খুব বেশি সময় রাস্তায় অবস্থান করতে পারেনি তারা।

শেয়ারাজারের সর্বশেষ মহাধসের সময় ২০১০-১১ সালে বিনিয়োগকারীরা অনেকটা নিয়মিত রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতেন। ধীরে ধীরে বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসায় বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালের পর থেকে বিনিয়োগকারীদের আর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়নি। সে হিসাবে প্রায় তিন বছর পর বিনিয়োগকারীরা আবার দরপতনের প্রতিবাদে রাস্তায় নামলেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলন, শেয়ারবাজারে পরিকল্পিতভাবে দরপতন ঘটানো হচ্ছে। এর প্রতিবাদে আমরা আজ রাস্তায় নেমেছি। পুলিশের বাধার কারণে বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি। তবে আগামীকাল (মঙ্গলবার) ২টার সময় আমরা আবার ডিএসইর সামনে অবস্থান নেব।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে যে চক্র শেয়ারবাজার থেকে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ হাতিয়ে নেয়, সেই চক্রই আবার বাজারে সংক্রিয় হয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবেই এমন অবস্থার সৃষ্টি করছে। আমরা ২০১০ সালে যারা শেয়ারবাজার অস্থিতিশীল করেছিল তাদের বিচার চাই। বাজার যতদিন স্বাভাবিক না হবে আমাদের আন্দোলন চলবে।

যোগাযোগ করা হলে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, কয়েকজন বিনিয়োগকারী সোমবার ডিএসইর সামনের রাস্তায় দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। আমরা তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেই। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুদ্রানীতি, এডিআর কমানো এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বাজারে যে গুঞ্জন রয়েছে তা একটি শ্রেণি ইচ্ছাকৃতভাবেই ছড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে, ওই চক্র কম দামে শেয়ার কিনে নিচ্ছে। এসব গুঞ্জনের কোনো ভিত্তি নেই।

বাজার সংশ্লিষ্টরা এমন কথা বললেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ফলে সোমবার টানা পাঁচ কার্যদিবস দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। এই পাঁচদিনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ৩০৭ পয়েন্ট। আর শুধু রোববারেই কমে ১৩৩ পয়েন্ট।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা আচ করতে পেরে রোববার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকে বসে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), ডিএসই ব্রোকারর্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) এবং ডিএসই শীর্ষ ৩০ ব্রোকারের নেতারা ওই বৈঠকে অংশ নেন।

এর আগে গত বুধবার শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়। ওইদিন ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমে যায় ৮৮ পয়েন্ট। ওই পতনের পর জরুরি সংবদ সম্মেলন ডাকে বিএমবিএ ও ডিবিএর নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একটি গ্রুপ পরিকল্পতিভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। মুদ্রানীতি, এডিআর এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করেই ওই অতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। আতঙ্কের কারণে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন, যে কারণে এমন দরপতন হচ্ছে।

সূত্র: জাগোনিউজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

June ২০২১
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০