সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বিনিয়োগ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ

প্রচ্ছদ » Breaking News || Slider || সম্পাদকীয় » সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বিনিয়োগ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ

বিনিয়োগ শিক্ষা হচ্ছে ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান। এ জ্ঞান আহরণের ফলে আর্থিক জালিয়াতি থেকে রক্ষা পাওয়া এবং সুরক্ষিত আর্থিক ভবিষ্যত গড়ে তোলা যায়। এছাড়া বিভিন্ন বিনিয়োগ পন্যের উপযুক্ততা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে বিনিয়োগ শিক্ষা। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এর ফলে দেশের পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাত স্থিতিশীল হবে। একইসঙ্গে কারসাজির সম্ভাবনাও হ্রাস পাবে।

দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ২০১২ সালে একটি ১০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, যেখানে বিনিয়োগ শিক্ষার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকও এ বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। আর এটিকে ফলপ্রসু করার জন্য স্কুল পর্যায় থেকেই এ শিক্ষা শুরু করার কথা বলা হয়েছে। জাতীয় পাঠ্যক্রমে আর্থিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি জাতীয় নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেছে বিএসইসি। এছাড়া বিশ্ব পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রকদের সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশন্স (আইওএসকো) এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের প্রায় সবদেশে একযোগে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ পালন করে আসছে।

বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে এ সংক্রান্ত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। এছাড়া মানুষকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। তাদের জীবনে অর্থের ভূমিকা, সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যবহার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সুবিধাদি, সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করার বিভিন্ন পদ্ধতি এবং বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষার উপায় অবলম্বনের জ্ঞান প্রদানসহ এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের শিক্ষার দিকে নজর দেওয়ার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। তবে এই কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ‘জাতীয় আর্থিক শিক্ষা নীতি’ চালু করার উদ্দেশ্যে সরকার, মন্ত্রণালয় এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে সরকারের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সহায়তা বিশেষভাবে প্রয়োজন। একইসঙ্গে পুঁজিবাজার সংশ্লিস্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে, স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপজিটরি, ক্লিয়ারিং কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচী সফল করার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানি সমূহকেও বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকেও বিনিয়োগ শিক্ষা সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং আলাদা বিভাগ খুলতে হবে। আর এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশে শিক্ষিত ও সচেতন বিনিয়োগকারী সৃষ্টির পথ প্রশস্ত হবে এবং আর্থিক খাত স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে।

লেখক: সাংবাদিক শামিম আল মাসুদ।

পুঁজিবাজার রিপোর্ট – আ/ব/সি/ ২৪ মে , ২০২১।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

September ২০২১
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০