স্বর্ন আমদানিতে শুল্ক ছাড় চায় বাজুস

প্রচ্ছদ » Slider || অর্থনীতি » স্বর্ন আমদানিতে শুল্ক ছাড় চায় বাজুস

নিজস্ব প্রতিবেদক : শুল্ক ছাড় চায় বাজুস বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ২০০ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ আমদানি করতে পারে তার দাবি জানিয়েছে বাজুস। স্বর্ণের ওপর বিদ্যমান শুল্ক কমালে চোরাচালান বন্ধের পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করে সংস্থাটি

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্মেলন কক্ষে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাজুস এর সহ সভাপতি এনামুল হক শামীম এসব সুপারিশ করেন।
এসময় সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বর্ণ চোরাচালান রোধে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত বিনাশুল্কে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ প্রদান, মূসক কমানোসহ বেশ কয়েকটি বিষয় সুপারিশ করা হয়।

বাজুসের সহ-সভাপতি এনামুল হক শামীম বলেন, স্বাধীনতার এতবছর পরও স্বর্ণকে বৈধতার ভেতর আনতে পারলাম না। এখনও এ শিল্পটি ফেরিওয়ালাদের (ব্যাগেজ রুলসে বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনা ব্যক্তি) কাছ থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করা হয়। এ স্বর্ণ সংগ্রহ করে রিস্লাইকিং এর মাধ্যমে চাকা স্বর্ণে রূপান্তরিত করে গহনা তৈরি করে তা বাজারজাত করা হয়।

তিনি বলেন, যখন ভরি প্রতি ৩০০ টাকা শুল্ক ছিল তখন প্রতিদিন স্বর্ণ থেকে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব পেত সরকার। ৩০০ টাকা থেকে এক ধাপে ৩ হাজার টাকা শুল্ক করার পর স্বর্ণ থেকে তেমন রাজস্ব আদায় হচ্ছে না।

স্বর্ণ আমদানি সহনীয় শুল্কের আওতায় আনলে চোরাচালান বন্ধ হয়ে যাবে উল্লেখ করে শামীম বলেন, জাতিকে স্বর্ণ চোরাচালানের কলঙ্ক থেকে মুক্তি দিতে এমন শুল্ক নির্ধারণ করতে হবে যেন চোরাচালান নিরুৎসাহিত হয়।

তিনি বলেন, এমন কোনো কর আরোপ করবেন না- যাতে চোরাকারবারিরা উৎসাহিত হয়। করের কাঠামো এমন করা উচিত যেন চোরাচালান করা স্বর্ণের দামের চেয়ে স্বর্ণের বাজার দাম কম হয়। এতে স্বর্ণের স্বাভাবিক বাজার তৈরি হবে। রাজস্ব আদায়ও বেশি হবে।

বাজুস এর এ নেতা বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে ৫০ হাজার লোক জড়িত। ভারতে চাহিদার ৮০ শতাংশ স্বর্ণ বাংলাদেশ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে যায়। বিনিময়ে ভারত থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার ফেনসিডিল আসে।

শামীম বলেন, দেশের ৫০ শতাংশ ধনী দেশ থেকে স্বর্ণ কিনেন না। কারণ ভারতে গিয়ে তারা অল্প দামে স্বর্ণ কিনতে পারেন। সেখানে ভ্যাট দেড় শতাংশ। আমাদের দেশে ৫ শতাংশ।
তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে দেশে ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তারা স্বর্ণ কিনবে। তাদের ধরে রাখার মতো কোনো পথ আমাদের নেই। দিন দিন ক্রেতা বাড়লেও এ শিল্পে নতুন কোনো বিনিয়োগ নেই, ভালো উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায় না।

রাজস্ব দ্বিগুণ করতে ব্যাগেজ রুলসের আওতায় বর্তমানে যাত্রীপ্রতি বিনা শুল্কে ১০০ গ্রাম এর পরিবর্তে ২০০ গ্রাম আনা সুযোগ প্রদানসহ ক্রেতা পর্যায়ে স্বর্ণ ও রৌপ্যের ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে বাজুস।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বাজুস এর সভাপতি গঙ্গা চরন মালাকার, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগওয়ালা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

November ২০২০
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০