ভ্যাট অনলাইন ব্যবস্থার পক্ষে বিশ্বব্যাংক

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » ভ্যাট অনলাইন ব্যবস্থার পক্ষে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এর বাস্তবায়ন ২ বছর পিছিয়ে দেওয়া হলেও অনলাইন প্রকল্প চালু রাখার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সেইসঙ্গে আশ্বাস দিয়েছে, সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাশে থাকার।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, নতুন ও পুরনো-উভয় আইনেই মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ব্যবস্থাকে অনলাইনভিত্তিক করা সম্ভব। ভ্যাট অনলাইন ব্যবস্থা চালু থাকলে তারাও আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এমনকি নির্ধারিত আর্থিক সহায়তার বেশি অর্থও মিলতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ কার্যকর করার কথা ছিল। এ আইন অনুসারে, ভ্যাট ব্যবস্থা অনলাইনভিত্তিক হওয়ার কথা। সে অনুসারে এনবিআর সফটওয়্যার কেনাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

কিন্তু ব্যবসায়ীদের প্রবল চাপের মুখে সরকার শেষ মুহূর্তে তার অবস্থান থেকে সরে আসে। আইনটির বাস্তবায়ন ২ বছরের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় সরকার। এতে ভ্যাটের অনলাইন ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এমন অবস্থায় পরিস্থিতি মূল্যায়নে ঢাকা সফরে এসেছে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল। চার সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বব্যাংকের সরকারি খাত ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বিভাগের প্রধান রাউল ফেলিক্স জানকুয়েরা ভারেলা।

গত ১৬ জুলাই প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় আসে। ইতোমধ্যে তারা এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও ঢাকা কার্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা এসব সভায় অংশ নেন।

উল্লেখ, ভ্যাট আইন ২০১৭ বাস্তবায়ন করতে ভ্যাট ইম্প্রুভমেন্ট কর্মসূচি হাতে নেয় এনবিআর। এর আওতায় ২০১৪ সালে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প নেওয়া হয়। এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক নমনীয় শর্তের ৬ কোটি ডলার ঋণ দেয়। কিন্তু ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট না হওয়ায় এই ভ্যাট ইম্প্রুভমেন্ট কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতেই বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা ঢাকায় আসেন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পরিপালনে ২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর নতুন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। এর বিনিময়ে আইএমএফ তার বর্ধিত ঋণ-সহায়তার (ইসিএফ) আওতায় বাংলাদেশকে নমনীয় সুদে ১০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেয়।

পাঁচ বছর আগে নতুন ভ্যাট আইন পাশ হলেও নানা কারণে তা কার্যকর করা হয়নি। সরকার একাধিকবার ওই আইন বাস্তবায়নের ডেটলাইন দিলেও পরে পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ জুলাই এ আইনটি কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সে অনুসারে প্রস্তুতিও অনেকদূর এগিয়ে নেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী এই আইন বাস্তবায়নের বিষয়টি মাথায় রেখেই চলতি অর্থবছরের বাজেট তৈরি করেন। তার বাজেট ঘোষণাতেও এ আইন বাস্তবায়নের বিষয়টি ছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীদের চাপে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।

নতুন ভ্যাট আইনে ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অনলাইন নিবন্ধন (ই-বিআইএন) থাকতে হবে। ভ্যাটের রিটার্নও জমা হবে অনলাইনে।

আইনটি বাস্তবায়নে এনবিআরের আহ্বানে ইতোমধ্যে ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান অনলাইনে নিবন্ধন করছে। কিন্তু ওই আইন বাস্তবায়ন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় কোন ভ্যাট শনাক্তকরণ নাম্বার কার্যকর হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দ্বিধা দেখা দেয়।

তবে নতুন ও পুরোনো ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) দুটিই আপাতত কার্যকর রাখার চিন্তা-ভাবনা করছে এনবিআর। দুই ধরনের বিআইএন ব্যবহার করার সময়সীমা ছয় মাস বেঁধে দিয়ে শিগগিরই গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মুহম্মদ জাকির হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুরোনো আইনের উপযোগী করে ভ্যাট রিটার্ন তৈরি ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এতে কিছুটা সময় লাগবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ ইবিআইএনে ভ্যাট রিটার্ন শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

December ২০২১
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Nov    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১