গ্যাস ও বিদ্যুৎ ভ্যাট না থাকায় ভাল : ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

প্রচ্ছদ » Breaking News || Slider || অর্থনীতি » গ্যাস ও বিদ্যুৎ ভ্যাট না থাকায় ভাল : ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্যাস ও বিদ্যুৎ সার্বজনিক ভোগ্য পণ্য বা সেবা। এ ধরণের পণ্য বা সেবায় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট/মূসক) না থাকাই ভালো বলে মনে করছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, এসব পণ্যে ভ্যাট তুলে দিতে পারলে ভালো। আর তা না হলে কমিয়ে আনা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে অর্থনীতিবিদগণের সাথে মতবিনিময় ও ২০১৭-২০১৮ সালের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন।

রিহ্যাবের কালো বিনিয়োগের সুযোগ প্রসঙ্গে প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ কালো টাকা নয়। আয় বৈধ কিন্তু প্রদর্শন করে করদাতা আয়কর দেননি এমন অর্থকে ঠিক কালো টাকা বলা যাবে না। কারণ, করদাতার আয় বৈধ, তিনি হয়ত আগে আয় প্রদর্শন করেননি। ওই অর্থ দিয়ে যদি করদাতা কিছু ক্রয় করতে চান তাহলে সেটাকে কালো টাকা বলাটা ঠিক হবে না। এটাকে অপ্রদর্শিত আয় বলাটাই যুক্তিসঙ্গত। কারণ, পরবর্তী সময়ে করদাতা অপ্রদর্শিত ওই আয়ের কর ঠিকই পরিশোধ করছেন।

এ অর্থ শুধু আবাসন খাতে নয়, যে কোনো খাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তবে আয় বৈধ বা অবৈধ এটা নির্ধারণের দায়িত্ব আয়কর বিভাগের নয়। এটা দুদক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাজ।

তিনি আরো বলেন, জমি রেজিষ্ট্রেশন সময় জমির প্রকৃত দাম লেখা হয় না। জমি বেশি মূল্যে বিক্রয় হলেও সাধারণত নুন্যতম দামে জমি রেজিস্ট্রেশন হয়। ফলে জমি বিক্রয়কারী বাকি অর্থের বৈধ উৎস দেখাতে পারেন না। যা পরবর্তী সময়ে কালো টাকা হয়ে যায়। তাই এলাকাভেদে জমি রেজিস্ট্রেশন মূল্য বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করা উচিত। যদিও এটা এনবিআরের কাজ নয়।

ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ভ্যাট সম্পর্কে অনেকগুলো আইন হচ্ছে। তবে আইন যতই সুন্দর হোক না কেন তার বাস্তবায়ন না হলে নতুন আইন করে লাভ হবে না। আইনের কতটুকু প্রয়োগ হচ্ছে সেটাই লক্ষ্যনীয়। একটা বিষয় হচ্ছে ভ্যাট যারা দিচ্ছেন তা সরকারের কাছে যায় কিনা। অনেক সময় বড় বড় দোকানে অস্পষ্ট ক্যাশমেমো দিয়ে ভ্যাট নেয়। এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, ক্রেতা যে ভ্যাট দেন তা এনবিআরের কাছে জমা হয়। অন্যদিকে ক্রেতা হিসেবে সকলের সচেতন হওয়াটাও জরুরি। সেজন্য প্রচারণা একটা বড় বিষয়।

তিনি আরো বলেন, ভ্যাট হলো এক ধরণের সেলস ট্যাক্স। নতুন আইনে একটা বিষয় পজেটিভ তা হলো ব্যবসায়ীদের বিক্রয়ের হিসাব রাখার গুরুত্ব বেড়ে গেছে।

আয়কর অনলাইন করার কারণে নিবন্ধনের সংখ্যা বেড়েছে। ভবিষ্যতে ওই করদাতার মাধ্যমে কতটুকু আয় হবে সেটা মনিটরিং করতে হবে। ভ্যাটের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কতজন ব্যবসায়ী ভ্যাট দেয়ার যোগ্য, আর কতজন ব্যবসায়ী নিবন্ধন নিলেন এ বিষয়ে এনবিআর কিংবা সরকারের পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। এ বিষয়টা জোড় দেওয়া উচিত।

অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রচারণা ও গণসংযোগ একটা বেশ ভালো বিষয়। কর বিষয়ে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সচেতনতা যত বৃদ্ধি করা যাবে, ততই কর ফাঁকি কমে যাবে। কারা কর দিচ্ছেন আর কারা কর দিচ্ছেন না, এটা প্রকাশ করলেও কর ফাঁকি প্রবণতা কমে আসবে। বর্তমানে কর না দেওয়া এক ধরণের বাহাদুরী মনে করা হয়। ভবিষ্যতে এমন পরিবেশ তৈরী করতে হবে যাতে কর ফাঁকিবাজরা অপরাধবোধে ভোগেন।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিগুলোর করের ব্যবধান বাড়ানো দরকার। এতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহি হবে।বিদেশি কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া জরুরী। অন্যদিকে বিদেশী কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

আলোচনা সভার সভাপতি এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান বলেন, করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে আমরা সিঙ্গেল উইনডো সেবা চালু করতে যাচ্ছি। এটা নিয়ে কাজ করছি। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক প্রতিটি বিভাগ ডিজিটালাইজ করার পথে হাঁটছি।

বাংলাদেশে পিডব্লিউসির পার্টনার ইনচার্জ মামুন রশীদ, পার্টনার সুশমিতা বসু এবং বিআইডিএস’র প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

November ২০২০
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০