মেয়ের মিথ্যা মামলার শিকার বাবা : বাদ যায়নি সাধারণ মানুষ
প্রচ্ছদ » Breaking News || Slider || সারাদেশ » মেয়ের মিথ্যা মামলার শিকার বাবা : বাদ যায়নি সাধারণ মানুষ
জহিরুল ইসলাম, কুমিল্লা: ৭০ বছর বয়সী কাসেম দীর্ঘদিন ধরে মেয়ে সালমা বেগমের অত্যাচার নির্যাতনে অতিষ্ঠ। বারবার মেয়ের হামলা ও বহু মামলার শিকারও হয়েছেন বাবা । এনিয়ে বহুবার দেনদরবার হলেও মেলেনি বৃদ্ধ বাবা কাশেমের নিরাপত্তা। উলটো যারা সালিশ করেছেন তারাই পরছে বিপাকে হয়েছেন বিভিন্ন মিথ্যা মামলার আসামি।
ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলা ভৈষেরকুট গ্রামে। হামলা মামলার শিকার কাশেম ওই গ্রামের মৃত রেশত আলীর ছেলে। স্থানীয়রা বলছেন অসামাজিক সালমা বেগম গ্রামের সম্মান নষ্টসহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। সকল বিষয় তদন্ত পূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ দাবি এলাকাবাসীর।
অনুসন্ধানে জানাযায়, সালমা বেগমের বিরুদ্ধে সমাজে নানান আপত্তিকর ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত সালমা বেগমের বাবার সাথে প্রথমে সে তার বাবাকে সম্পদের জন্য ধর্ষণের মামলা দিতে কার্পণ্য করেনি। সমাজে মাতব্বর বা সুশীলরা বয়বৃদ্ধ এই পিতার পক্ষে ন্যায় সংগত কথা বলায় গ্রামের প্রায় ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকায় ছাড়া করে সালমা বেগম। মামলাবাজ সালমা বেগমের কাছে জিম্মি ভৈষেরকুট গ্রামের বহু পরিবার। সালমা এই সমাজের ভাইরাস সে তার স্বামীকে ঘরজামাই করে এনে সমাজে এমন কোন অপকর্ম নেই যা করে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ আসমার স্বামী তার নিজ জেলা কিশোরগঞ্জ থেকে মার্ডার মামলা খেয়ে ভৈষেরকুট শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সালমা বেগমের তথ্য নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে শিশু থেকে বয়স্করা পর্যন্ত অভিযোগের ভাণ্ডার নিয়ে আসে। সালমা বেগম ৫/৭ টা এনজিও থেকে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায়,তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে এনজিও কর্তৃপক্ষ।
হামলা মামলার শিকার সালমার বাবা কাশেম বলেন , মামলার বাদী আমার তৃতীয় মেয়ে, আমার মেয়ে হলেও সে আমার অবাধ্য সন্তান , সে আমাকে দেবিদ্বারের ব্যাংকে টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে আমাকে জিম্মি করে জমি দলিল করে নেয়,তবুও আমি মেনে নিয়েছি সে আবার তাকে জমি লেখার জন্য আমাকে রীতিমতো ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিচ্ছে তাকে জমি দেওয়ার জন্য। এমতাবস্থায় আমি সমাজের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানাই তারা দরবার করে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ঢালাও ভাবে বহু মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়েছে শুধু মাত্র তার পক্ষে কথা না বলাতে। বড় কষ্ট কথা হচ্ছে এই নরপশু আমার মেয়ে বলতে লজ্জা লাগছে কারণ সে আমাকে ধর্ষণের ও অভিযোগ করেছিল, এমন অপবাদ নিয়ে এই দুনিয়াতে বাঁচার চাইতে আত্ম হত্যা করা আমার ভালো ছিল। আমি রাষ্ট্র ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জনাই সকল বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করার। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য জোর দাবি করছি।
সালমা বেগমের মা বলেন, আমার সাত সন্তানের মধ্যে ছয় জনই মেয়ে এক সন্তান তবে সালমা একটা উচ্ছৃঙ্খল অসামাজিক। যে মেয়ে নিজ জন্মদাতা বাবাকে সম্পদের জন্য ধর্ষণের অভিযোগ করে সে মেয়ে না। আমাদের সমাজের মানুষ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করে। আমি মা হিসেবে সরকারের কাছে বিচার চাই আর আল্লাহকে বলি এমন কুসন্তান যেন আর কারোর না হয়। তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি জানাই।
ইউপি সদস্য তুহিন বলেন, সালমা বেগম ও তার পরিবারের মধ্যে সম্পদ নিয়ে কয়েক বছর ধরে সমস্যা। তাদের পরিবারের মধ্যে মারামারি ও মামলা নিয়ে অনেক আমরা গ্রামবাসী সমাধানের চেষ্টা করেছি কিন্তু তার বাবা, মা সকলে রাজি হলেও সালমা বেগম সালিশ রাজি হয় না বরং সমাজের ন্যায় বিচার হাওয়ার সত্ত্বেও তিনি তার পরিবারের পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্ট বর্গদের কে আইনের কাছে ধারস্ত করেছে। যারা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছে তাদের সকলকে মিথ্যা মামলার আসামির করে মামলা দায়ের করে। এই মহিলা অসামাজিক কার্যকলাপে ও সাথে সম্পৃক্ত লিপ্ত থাকে, আমি এর পরিবারের কোন সালিশে যাই না আত্মসম্মানের ভয়ে।
সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন, সালমা বেগমের বাবা কাশেম একজন ভাল মানুষ। তার মেয়ে বিবাহ করেছে তার নিজের পছন্দ মত এবং তার থাকার জায়গা না থাকায় তার বাবার খরিদকৃত জমিতে ঘর করে বসবাস করার সুযোগ করে দেয়। পরে তার বাবার বিরুদ্ধে একাধিক বার মামলা করেছে সালমা। তাদের পরিবারিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সালিশ ডাকলে আমরা যাই তখন আজেবাজে মন্তব্য করলে আমরা সালিশি থেকে চলে আসি। এখন শুনেছি সালমা তার বাবাকেসহ গ্রামের বহু মানুষের নামে কোর্টে মামলা করেছে।
সালমা বেগমের দায়ের করা মামলার সাক্ষী বিল্লাল গাজি জানান, সালমা বেগম আমার দোকানের নিয়মিত কাস্টমার দোকানের আদান-প্রদান করে। কিন্তু তাদের পরিবারের বিষয়ে আমি কোন অবগত না, তাদের মামলা মধ্যে আমার সাক্ষী নাম উল্লেখ করেছে আমি কিছু জানি না, কেন আমাকে এই মিথ্যা মামলার সাক্ষী করলো তার তীব্র নিন্দা জানাই।
মামলা সূত্রে জানাযায়, আদালতে দায়ের করা মামলার সাক্ষীদের ৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩ জন সালমা বেগমের পরিবারের। তার পরিবারের বাহিরের বাকী পাঁচজনের সাক্ষাৎ নিলে সকলের একই বক্তব্য তারা মহিলার মামলা ও ঘটনার সাথে তারা অবগত নায়, তাদের না জানিয়ে সাক্ষীর নাম উল্লেখ করেছে সালমা বেগম। তারা চায় মিথ্যা মামলার সাক্ষী থেকে অব্যাহতি এবং সালমা বেগমকে আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচারের।
শফিউল্লাহ নামের এক সাক্ষী জানান, আমার বাড়ি পাশের গ্রামে আমি তাদের ঘটনার কিছুই দেখিনি বা উপস্থিত ছিলাম না। আমি এখন ঢাকায় কাজ করি সালমা বেগম আমাকে কেন সাক্ষী দিলো বাড়ি এসে ওনার কাছে জানতে চাইবো।
এবিষয়ে জানতে সালমা বেগমকে ফোন করলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।
দেবিদ্বার থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, সালমা বেগম তার বাবাকে প্রথম আসামি করে কুমিল্লা আদালতে মামলা করেছে, এর আগেও সে এমন মামলা করেছে। আদালত তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন চেয়েছে, ঘটনা সত্যতা যাচাই-বাছাই করে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য। তিনি জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকর নির্দেশ দিয়েছি সঠিক তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন প্রেরণ করার জন্য যাতে করে কোনো নিরাপদ মানুষ হয়রানি শিকার না হয়।
আ/সি/কু/২৮ মে ২০২৫ ইং








