ড. কামাল হোসেনের সমালোচনায় ফরাসউদ্দিন
প্রচ্ছদ » Uncategorized » ড. কামাল হোসেনের সমালোচনায় ফরাসউদ্দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে, ‘বাংলাদেশের অস্তিত্বেরও বিপক্ষে। তিনি (ড. কামাল হোসেন) জামায়াত-বিএনপি তথা জঙ্গিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ কত দূর যেতো?’- শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অর্থনীতি সমিতির সহ-সভাপতি এ জেড এম সালেহ্’র সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত।
বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফরাসউদ্দিন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সাম্প্রতিক সময়ের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। বলেন, ড. কামাল হোসেন অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ও আন্তর্জাতিকভাবে খুবই সম্মানীত। কিন্তু দেশে তার সম্মান কতটুকু, তা জানি না। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের গণজোয়ারের সময়ও তিনি মনোনয়ন পাননি। বঙ্গবন্ধু তার তিনটি আসনের একটি থেকে তাকে পাস করিয়ে আনেন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনেও বঙ্গবন্ধু নিজের আসন থেকে তাকে পাস করিয়ে আনেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর আসন থেকে এককভাবে নির্বাচন করে ছয় হাজার ১৮৭ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
ড. কামালের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, তিনি এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে, বাংলাদেশের অস্তিত্বেরও বিপক্ষে। তিনি জামায়াত-বিএনপি তথা জঙ্গিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট তাকে একটা দূতাবাসে দেখা গেছে। বুকে হাত দিয়ে তার চিন্তা করা উচিত, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু তার জন্য কী করেছে? শেখ হাসিনা তার জন্য কী করেছে? ১৯৯১ সালে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাকে সরিয়ে মিরপুর থেকে ড. কামালকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের অর্জন কম নয়। মাত্র আট বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এখন ২৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার দুই মাস আগে বলেছেন, আমি অনেক রাজা-উজিরের সাক্ষাৎ পাই। শুধু একজন জাতির পিতার (বঙ্গবন্ধু) সাক্ষাৎ পাইনি।
মূল প্রবন্ধে অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে সোনার বাংলা গঠনের স্বপ্নকেই হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে ১৯৯৪-৯৫ সালেই মাথাপিঁছু জিডিপিতে মালয়েশিয়াকে ছাড়িয়ে যেতো বাংলাদেশ।








