হত্যাকাণ্ডের জেরে স্কুলে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা

প্রচ্ছদ » Uncategorized » হত্যাকাণ্ডের জেরে স্কুলে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা

school b-bariaপুঁজিবাজার রিপোর্ট ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাত আক্তার। পড়ালেখায় বেশ ভালো সে, আর কদিন পরেই তার বার্ষিক পরীক্ষা। কিন্তু গত ১৭ দিন ধরে স্কুলে যেতে পারছে না জান্নাত। একটি হত্যা মামলায় বাবা ফরিদুল ইসলাম মৃধা আসামি হওয়ায় বাদী পক্ষের লোকজনের ভয়ে স্কুল যাওয়া বন্ধ জান্নাতের।

শুধু জান্নাত আক্তার নয়, তার মতো আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারছে না বাদী পক্ষের লোকজনের ভয়ে। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, রাতের আঁধারে দল বেঁধে আসামি পক্ষের লোকজনদের বাড়িতে হানা দিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও নারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে বাদী পক্ষের লোকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ নানা বিষয় নিয়ে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা গ্রামের বাসিন্দা শামছু মিয়া ও ইউপি সদস্য অলি আহাদ মৃধার বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই (সংঘর্ষে শামছু মিয়া (৬৫) নিহত হন। এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৫ সেপ্টেম্বর নিহত শামছু মিয়ার ছেলে মো. হাসেন মিয়া বাদী হয়ে ২৯ জনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই গ্রেফতারের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন আসামিরা।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অনেকটা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বুড্ডা গ্রামে। আসামি পক্ষের বেশিরভাগ পুরুষ গ্রামছাড়া হওয়ায় বাদী পক্ষ এখন এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করে আছে। রাতের আঁধারে বাদী পক্ষের লোকজন আসামি পক্ষের লোকজনের বাড়িতে গিয়ে হানা দিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের ভয়ে বাড়ির নারী ও শিশুরাও এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

অন্যদিকে বাদী পক্ষের লোকজনদের ভয়ে গত ১৭ দিন ধরে স্কুলে যেতে পারছে না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কবে স্কুলে যেতে পারবে সেটিও জানে না তারা। এতে করে পড়ালেখায় ক্ষতি হচ্ছে তাদের।

হত্যা মামলার আসামি ফরিদুল ইসলাম মৃধার মেয়ে জান্নাত আক্তার জানায়, আমি ভয়ে স্কুলে যেতে পারি না। স্কুলে যাওয়ার পথে ওরা যদি আমাদের কিছু করে সেজন্য ভয়ে স্কুলে যাই না। সামনে আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা। ওই পরীক্ষাও দিতে পারব কি-না জানি না।

জান্নাতের মা পারভীন বেগম বলেন, বাড়ির পুরুষরা গ্রামছাড়া হয়েছে। বাদী পক্ষের লোকজন আমাদের বাড়িতে থাকেত দিচ্ছে না। রাতের বেলা বাড়িতে এসে আমাদের অত্যাচার করে। হুমকি দিয়েছে- মৃধা গোষ্ঠীর একটি শিশুকে পেলেও কুচি-কুচি করে কেটে ফেলে দেবে। এই ভয়ে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই, স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে চাই।

আরেক আসামি জুরু মৃধার মেয়ে রাহিমা জানায়, সে বুড্ডা চাইল্ড এডুকেয়ার নামে একটি কিন্ডারগার্টেনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ভয়ে সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তার বই-খাতা সব ছিড়ে ফেলা হয়েছে।

নিপা বেগম নামে আরেক নারী জানান, হত্যকাণ্ডের জেরে পুরুষরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারে না। নারীরা যারা বাড়িতে থাকে তাদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বাড়িতে থাকলে আগুন লাগিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। নারীরা তো কোনো অন্যায় করেনি। কোনো একটা ছেলে-মেয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। বই-খাতা সব ছিড়ে ফেলে দিয়েছে। ঘর থেকে ধান-চাল যা ছিল সব নিয়ে গেছে।

মঙ্গলবার কয়েকজন সাংবাদিক বুড্ডা গ্রামে গেলে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন নিহত শামছু মিয়ার পক্ষের লোকজন। আবু তাহের নামের একজন সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি আসামি পক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে তার চাচাতো ভাই শামছু মিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন বলেন, মনের ভয়ে কেউ যদি সবসময় ভীত থাকে তার ভয় তো কেউ দূর করতে পারবে না। সেখানে (বুড্ডা গ্রাম) কারো ওপর কোনো হামলা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ঘটনার পর বেশ কিছুদিন পুলিশ মোতায়েন ছিল। উভয় পক্ষের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

[ytplayer id=33256]

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১