‘জুম’ একটি সর্বনাশা অ্যাপের নাম – মাহমুদ শারাফাত
প্রচ্ছদ » Uncategorized » ‘জুম’ একটি সর্বনাশা অ্যাপের নাম – মাহমুদ শারাফাত
‘জুম’ এই মূহূর্তে সকল স্তরের পরিচিত একটি অ্যাপ এর নাম। কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশই লকডাউন এর মাঝে আছ। ইতিমধ্যে এই অ্যাপটি ৩০ শতাংশ বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে পূর্বের ব্যবহারের চেয়ে। সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিয্ঠান এবং সংস্থাসহ ব্যবহার শুরু করেছে। জুম যুক্তরাষ্ট্রের একটি নাম করা প্রতিষ্ঠানের তৈরী একটি অ্যাপ। তবে এই অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্বেই অনেক জটিলতা এবং তথ্য হ্যাক হবার কথা বিশ্বব্যাপী প্রচলিত। এখনও অ্যাপটি আগের ন্যায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। সেকারণে অনেক সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ এটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে আহবান করেছে ।
সম্প্রতি ভারতের মিডিয়াতে এই তথ্য ব্যাপক ভাবে প্রচারিত হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সময় অনেক প্রতিষ্ঠানের আলোচনা জুম অ্যাপ এর মাধ্যমে করা হচ্ছে। তেমনি ভারতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় তাদের সেনাসদর দপ্তরের সাথে বৈঠক এই অ্যাপের মাধ্যমে করার কারনে ভারতের মিডিয়া ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা তথ্য হ্যাক হবার সম্ভাবনা পোষণ করেন। যেখানে বলা হয়েছে এই অ্যাপের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে এর তথ্যের ঝুঁকিও অনেকাংশে বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ, স্কুল-কলেজের ক্লাস, অফিসিয়াল আলোচনা, ব্যাক্তিগত সময় কাটানোসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বেড়ে গিয়েছে এই জুম এর মাধ্যমে।যা বিশ্বের তথ্যের জন্য হুমকিস্বরুপ।
এমন অবস্থায় বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠান গুগল, নাসা, মাইক্রোসফট, অ্যাপেল সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের জুমের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজি বাজারে বেড়ে যাওয়া জুমের শেয়ারের মূল্য আবার কমতে শুরু করেছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠান জুমের মাধ্যমে তাদের তথ্য আদান প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে।ইতিমধ্যে সিংগাপুর ও তাইয়ান জুম ব্যবহারে নিশেধাজ্ঞা জারি করে দেশটিকে হুঁশিয়ারি ও সতর্কতা প্রদান করেছে।
সম্প্রতি সিংঙ্গাপুরে কিছু কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাসের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে অশালীন আচরন করার কারণে শিক্ষকদের অ্যাপটি ব্যবহার না করার জন্য এই সতর্কতা দেয়া হয়। একিভাবেই সাইবার হামলার সম্মুখীন যাতে না হতে হয় সে কারণেই তাইওয়ান সরকারও তার সরকারী অফিস আদালতকে এই অ্যাপটি ব্যবহার এ বিরত থাকতে বলেছে। আমেরিকা এবং জার্মানির রাজনীতিবিদদেরকে এই অ্যাপটি ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দিয়েছে যার যার সরকার।
অতীতে জুম অ্যাপ কতৃপক্ষ দাবিকরেছে যে তাদের এন টু এন ইনক্রিপশন আছে। বিশ্বের প্রায় সকল দেশের আইটি বিশেষজ্ঞদের গবেষনায় দেখা গেছে আসলে জুম অ্যাপ এ এই সুবিধাটি নাই। ফলে এই অ্যাপ এর মাধ্যমে ভিডিও হ্যাকিং করাটাও হ্যাকারদের পক্ষে অধিকতর সহজ হয়ে যাচ্ছে। এই কারণে জুম অ্যাপ কতৃপক্ষ বিশেষ কোন ভূমিকা এখনও রাখতে পারে নাই। তাই পৃথিবীর সকল জুম ব্যবহারকারীদের জন্য এটা ব্যবহার করা অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ।
লেখকঃ মাহমুদ শারাফাত
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)
ক্রিয়েটিভ সিটি টেকনোলজিস।








