জানুয়ারি থেকে স্বর্ণালংকার ফেরত দিলে ৫ শতাংশ বাড়তি অর্থ

প্রচ্ছদ » Uncategorized » জানুয়ারি থেকে স্বর্ণালংকার ফেরত দিলে ৫ শতাংশ বাড়তি অর্থ

 

পুঁজিবাজার রিপোর্ট ডেস্ক :স্বর্ণের অলংকার কেনার পর তা ফেরত দিলে ক্রেতারা জানুয়ারি মাস থেকে ৮৫ শতাংশ অর্থ ফেরত পাবেন। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বর্তমানে ক্রেতারা স্বর্ণ ফেরত দিয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ ফেরত পান। সে হিসেবে নতুন বছরের শুরু থেকে স্বর্ণের অলংকার ফেরত দিয়ে ক্রেতারা পাঁচ শতাংশ অর্থ বেশি পাবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাজুসের সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে কোন ক্রেতা স্বর্ণালংকার কেনার পর তা ফেরত দিলে তিনি যে দামে ওই অলংকার কিনেছেন তার ৮০ শতাংশ অর্থ ফেরত পান। আর কেনা অলংকার পরিবর্তন করতে চাইলে ৯০ শতাংশ অর্থ পান। দীর্ঘদিন ধরেই এ নিয়ম চলে আসছে তবে সম্প্রতি স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে স্বর্ণ ফেরতের নীতিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।

সোমবার (২১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত বাজুসের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কোনো ক্রেতা তার কেনা স্বর্ণালংকার ফেরত দিলে তিনি যে দামে অলংকার কিনেছেন তার ৮৫ শতাংশ অর্থ ফেরত পাবেন। আর অলংকার পরিবর্তন করতে চাইলে এখনকার মতো ৯০ শতাংশ অর্থ পাবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ক্রেতাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমরা রিফান্ড পলিসিতে পরিবর্তন এনেছি। এখন কেনা স্বর্ণের অলংকার ফেরত দিলে ক্রেতারা ৮০ শতাংশ অর্থ ফেরত পান। ১ জানুয়ারি থেকে ৮৫ শতাংশ অর্থ ফেরত পাবেন। বাজুস থেকে ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।

এদিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লেও আপাতত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। এ বিষয়ে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার বিষয়টি আমরা নজরদারি করছি। ক্রেতাদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমরা আপাতত স্বর্ণের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি আরও কিছুদিন দেখতে চায়।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, নভেম্বরের শেষ দিকে এসে বিশ্ববাজারে পতনের মধ্যে পড়ে স্বর্ণের দাম। এতে ২৫ নভেম্বর থেকে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমানো হয়। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দুই হাজার ৫০৭ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ৭৩ হাজার ৮৩৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ ৭০ হাজার ৬৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ৬১ হাজার ৯৩৬ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫১ হাজার ৬১৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর পরও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। দফায় দফায় দাম কমে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম সাড়ে ১৭০০ ডলারের কাছাকাছি চলে আসে। ফলে দেশের বাজারে আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস।

গত ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বাজুসের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ ডিসেম্বর থেকে স্বর্ণের দাম কমানো হয়। এ দফায় ভরিপ্রতি এক হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়।

অবশ্য দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়ার দিনই (১ ডিসেম্বর) বিশ্ববাজারে আবার বড় উত্থানের আভাস পাওয়া যায়। দাম বাড়ার প্রবণতা চলে গত সপ্তাহজুড়ে। এতে গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে ২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এক হাজার ৮৮১ দশমিক শূন্য ৪ ডলারে ওঠে।

স্বর্ণের এই দাম বাড়ার প্রবণতা চলতি সপ্তাহেও দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার লেনদেনের শুরুতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে এক হাজার ৯০২ দশমিক ৭২ ডলারে উঠে যায়। তবে দিনের লেনদেন শেষে ১৮৭৬ ডলার থিতু হয়।

সোমবার লেনদেনের শেষদিকে স্বর্ণের কমে গেলেও মঙ্গলবার লেনদেনের প্রথমার্ধে আবার দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ ডলার বেড়ে ১৮৮০ ডলারে উঠেছে।

পুঁজিবাজার রিপোর্ট – নূ/আ/সি/২২শে ডিসেম্বর, ২০২০।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

[ytplayer id=33256]

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

July ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১