পুঁজিবাজার রিপোর্ট ডেস্ক : দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এর চেয়েও বেশি রানের ব্যবধানে এর আগেও অনেকবার হেরেছে। এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই ইনিংস পরাজয় আছে অনেকগুলো।
কিন্তু সেই আগের বাংলাদেশ এখন আর নেই। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সম্প্রতি ড্র করেছে তিনটি সিরিজ।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্টে যেন সেই আগের দুর্বল আর কাঁচা বাংলাদেশ! প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বোলারদের ব্যার্থতা আর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯০ রানে ব্যাটসম্যানদের গুটিয়ে যাওয়ার ফল দাঁড়ায় ৩৩৩ রানে বিশাল পরাজয়। দ্বিতীয় টেস্টে ফলোঅনে পড়ে ইনিংস পরাজয়ের শংকাও তৈরি হয়েছে।
প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পরে দলপতি মুশফিকুর রহিম ‘ঢালাও’ ভাবেই বোলারদের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। তবে মুশফিকের সেই ‘একপেশে’ অভিযোগের সমালোচনা করেন অনেকেই। সমালোচনা করেন টসে জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্তেরও।
এরপর গতপরশু দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে টস জিতে আবার বোলিং এর সিদ্ধান্ত নেন মুশফিক। ম্যাচের প্রথম দিনে প্রথম ইনিংসে বোলারদের আরেক দফা ব্যর্থতা হয়। এ বিষয়ে খেলা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুশফিককে প্রশ্ন করা হলে তিনি একটু বাঁকা ভাবেই বলেন, ভাই টসে জেতা ভুল হয়ে গেছে’।
ধারাবাহিক ব্যার্থতা এবং তারপর এমন মন্তব্যের পরে গতকালও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সংবাদমাধ্যমে মুশফিকের সমালোচনা হয়। প্রশ্ন তোলা হয় তার নেতৃত্বের দক্ষতা নিয়েও।
এর একপর্যায়ে দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি দৈনিকের খবরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বরাত দিয়ে বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ দিয়েই সম্ভবত অবসান হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিম-যুগ। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের পর এবার টেস্টের অধিনায়কত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মোটামুটি নিয়ে ফেলেছে বিসিবি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক পরিচালক প্রথম আলো নামের দৈনিকটিকে বলেন, আমরা মুশফিকের বিকল্প ভাবতে শুরু করেছি। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তার কিছু বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। অনেক সিদ্ধান্তও ভুল হচ্ছে।
এদিকে প্রথম টেস্টে টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তে কাল ঢাকায় সংবাদমাধ্যমের কাছে সরাসরিই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের পিচে ব্যাটিং না নেওয়ার যুক্তিই হতে পারে না। এটা মুশফিকই ভালো বলতে পারবে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুশফিককে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে টেস্ট দলের সম্ভাব্য অধিনায়ক হতে পারেন তিন সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল বা মাহমুদউল্লাহর মধ্যে যেকোনো একজন। এ ক্ষেত্রে বিসিবির আগ্রহটা সাকিবের দিকেই বেশি। তবে সাকিব আদৌ টেস্ট খেলবেন কি না বা খেললেও নিয়মিত খেলবেন কি না তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে বিসিবি।
এদিক মাহমুদউল্লাহর পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাবের কারণেই তার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না বোর্ড।
তাই তামিমেরই টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ওই কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিসিবির ওই পরিচালক অবশ্য বলেছেন, পরবর্তী টেস্ট সিরিজের আগে আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে। মুশফিকের পরিবর্তে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেই আলোচনা এখনো হয়নি। বোর্ড নিশ্চয়ই ওদের সঙ্গে কথা বলবে।
তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজের যেহেতু দেরি আছে, টেস্ট অধিনায়ক বদলের চূড়ান্ত ঘোষণাটা দিতে হয়তো আরেকটু সময় নেবে বিসিবি।
উল্লেখ, টেস্টে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বেই। বাংলাদেশ দলের ১০টি টেস্ট জয়ের ৭টিই তার অধিনায়কত্বে। ব্লুমফন্টেইন টেস্টের আগে মোট ৩৩টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে সাত জয় ছাড়াও মুশফিকের দল ড্র করেছে ৯ টেস্টে। হার ১৭টিতে।








