৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন

প্রচ্ছদ » Uncategorized » ৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন

পুঁজিবাজার রিপোর্ট ডেস্ক: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ব‌লে‌ছেন, গত ২ মাস ৫ দিনে ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন শেষ হয়েছে। বাকি‌দের নিবন্ধন ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করা হ‌বে।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গার নিবন্ধন কাজ ৫০টি বুথে চলছে। নিবন্ধন শেষ হলেই রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে মতবি‌রোধ আর থাকবে না।

রো‌হিঙ্গাদের সাম‌য়িক পুনর্বাস‌নের সা‌র্বিক প‌রি‌স্থি‌তি তুলে ধরেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী। তি‌নি ব‌লেন, রোহিঙ্গাদের জন্য ৩৫ হাজার টয়লেট দরকার। এর মধ্যে ৯ থেকে ১১ হাজার তৈরি করা হয়েছে। ইউনিসেফ ১০ হাজার ১০ হাজার টয়লেট করছে। বাকি টয়লেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বিশুদ্ধ পানির জন্য জন্য ৮ হাজার নলকূপ দরকার। ইতিমধ্যে গভীর নলকূপ একহাজার বসানো হয়েছে। তুরস্ক দুই হাজার ও ইউনেস্কো একহাজার টিউবওয়েল নির্মাণ করে দেবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ক্যাম্প এলাকায় ২২ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ করে দেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কারণ পাহাড়ি অঞ্চলে তাদের সড়ক নির্মাণের অভিজ্ঞতা আছে। ইতিমধ্যে ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার নির্মাণ করা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া সংযোগ সড়ক করে দেবে এলজিইডি, যার ৮০ শতাংশ কাজ শেখ হয়েছে। নভেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে। ২২ কিলোমিটারের মধ্যে ১৮ কিলোমিটার রাস্তায় ১৩৫ বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো হচ্ছে। প্রতিটি খুঁটিতে একটি করে স্ট্রিট লাইট থাকবে। যদি কোনো কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকে সেজন্য করে সোলার বসানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কুতুপালং এলাকায় ২০টি ব্লকে পাঁচটি পুলিশ ক্যাম্প থাকবে। চারটি ব্লকের জন্য একটি করে পুলিশ ক্যাম্প থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত তৎপর আছে।

মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৩০ হাজার গর্ভবতী। এর মধ্যে ১১ হাজার মহিলার যেকোনো সময় সন্তান প্রসব হবে। ইতিমধ্যে ৮০০ নতুন মুখ পৃথিবীর আলো দেখেছে।

তিনি বলেন, বাংলা‌দে‌শে আশ্রয় নেওয়া রো‌হিঙ্গা এতিম শিশু মোট ২৪ হাজার। যারা একেবারে অনাথ তাদের সংখ্যা চার হাজার। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রী বলেন, গত ২ মাস ৫ দিনে ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। এছাড়া ১৯৭৮ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময় এসেছেন ৪ লাখ। ফলে এ পর্যন্ত মোট ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন। তাদের আশ্রয়, খাবার, ‌চিকিৎসা ইত্য‌া‌দি ব্যয় বহন করা খুবই কষ্টকর। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ও মানবিক দিক বিবেচনা করে মন্ত্রণালয়ের ওপর যে দায়িত্ব রয়েছে তা সঠিকভাবে পালন করছি।

মায়া বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা অল্পতে কেটে গেলে ভালো। যদি তা না হয় তবে তাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে। জায়গাটিকে বসবাসের উপযোগী করার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী কাজ করছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মিয়ানমার কিছুটা নতজানু হয়েছে। এ চাপ চাপ অব্যাহত হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মায়া বলেন, রোহিঙ্গাদের আক্রমণে বাঙালি খুন হওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২৬টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে যেতে না পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

[ytplayer id=33256]

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

July ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১