করোনায় সিসি ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা ও পরবর্তীতে সম্ভব্য সংকট
প্রচ্ছদ » Uncategorized » করোনায় সিসি ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা ও পরবর্তীতে সম্ভব্য সংকট
বর্তমান বিশ্বে কোরোনা ভাইরাস সমস্ত জাতিকে ভীতিকর পরিস্থিতির পাশাপাশি শংকিত করে ফেলেছে। এর চেয়েও মারাত্মক ভাবে সকলকে চিন্তিত করে, সকলের কর্মস্থানকে নিয়ে । কারণ এই মহামারীর পর আবারও সবাইকে তার কর্মস্থলের দিকে ফিরতেই হবে। পৃথিবীর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রাণের ভয়ের পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার কথাটাও ভাবতে হচ্ছে। সকলেই এই লকডাউন পরিস্থিতির মাঝেও তাদের প্রতিষ্ঠানকে দেখে রাখতে পারছে না। ফলে তাদের ভবিষ্যতে এক ধরনের অনিশ্চিত কামনার কথাও ভাবতে হচ্ছে বর্তমানে।
পৃথিবীতে এখন অনলাইন ছাড়া কোন কাজ হবে, সেটার কথা ভাবতেও পারে না কেউ । এই অনলাইন দুনিয়াতে ইন্টারনেট সাহায্য নিয়ে মানুষ ঘরে বসেই তার অফিস, গোডাউন, বিক্রয়কেন্দ্র কিংবা অফিসের কর্মকর্তাদের বর্তমান অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারছে।এর ফলে কিছু অনাকাংক্ষিত ভবিষ্যত ভয় থেকে কিছুটা হলেও দূরে থাকতে পারছে। কারণ যেখানে মানুষ নিজের জীবনকে নিয়ে চিন্তায় সময় পার করছে, সেখানে অতিরিক্ত একটি চাপ থেকে হলেও এখন দূরে থাকতে পারছে সে সকল মানুষেরাই । এই সকল সুবিধাটি দুটি জিনিসের মাধ্যমেই সম্ভব হচ্ছে।আর তা হল ইন্টারনেট ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বা সংক্ষেপে সিসি ক্যামেরা বলে পরিচিত।
সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে এখন পুরা দুনিয়াতে নিরাপত্তা অথবা পর্যবেক্ষণ শুধু নয়, এর মাধ্যমে অনেক কিছু সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। বলা বাহুল্য, এখন আন্তর্জাতিক ভূখন্ড রক্ষায়ও সিসি ক্যামেরার ব্যবহার ভূমিকা অপরিসীম হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চুরাচালান রোধ, মানব পাচার, মাদক ছাড়াও অনুপ্রবেশ রোধ করতে বিশ্বের প্রায় সকল দেশ এখন সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
জগতের সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্ট ইকুইপমেন্টের বাজারে বিভিন্ন ধরনের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। যা চায়না, জাপান, তাইওয়ান, মালায়শিয়া, ভিয়েতনাম, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, কোরিয়া ও আমেরিকা ছাড়াও আরও অনেক দেশ তৈরী করে থাকে। তবে বাংলাদেশ এই সমস্ত দেশ থেকে এই পন্য আমদানী করে থাকে। এর মাঝে বেশির ভাগ সিসি ক্যামেরা আসে চায়না থেকে। গুনগত মান ও কোয়ালিটির দিক থেকে এই পন্যসমূহ যথেষ্ট ভালো। বাংলাদেশে কিছু ব্রান্ডের সিসি ক্যামেরার চাহিদা দিনে দিনে বাড়ছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – ক্যাম ভিউ, ইউনি ভিউ, ভ্যালুটপ, হিকভিশন, ও দাহুয়া। এসকল পন্যের বিক্রয়ত্তর সেবাও অনেক ভালো।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরের প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের যে প্রাদুর্ভাব চীনের সিসি ক্যামেরা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গুলিতে পরেছে তার প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারে পরবে বলে আশঙ্কাজনক মনোভাব পষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা।এই কারণে করোনা প্রাদু্র্ভাব শেষ হবার পর হয়ত কিছুদিন এই পন্যের বাজারটি কিছুটা অস্থিতিশীল হতে পারে এবং আমাদের দেশের ক্রেতাদের কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। যার ফলে পূবেই চীনের কিছু সিসি ক্যামেরা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এখন থেকে কাজ শুরু করেছে যেন, এই ধরনের নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত পন্যের কোন সংকট যেন বিশ্বপরিমন্ডলে না হয়।
লেখকঃঃ মাহমুদ শারাফাত
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)
ক্রিয়েটিভ সিটি টেকনোলজিস








