ঝড়ে লন্ডভন্ড ফরিদপুরের ২০ গ্রাম

প্রচ্ছদ » সারাদেশ » ঝড়ে লন্ডভন্ড ফরিদপুরের ২০ গ্রাম

পুঁজিবাজার রিপোর্ট ডেস্ক: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ঝড়ে দুইটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম লন্ডভন্ড হয়েছে। এতে শতাধিক বসতঘর বিধ্বস্ত ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুতের তার ছিড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার পাচুড়িয়া ও বানা ইউনিয়নে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও অসংখ্য গাছপালা ভেঙে এবং উপড়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় সড়কের উপরে গাছ পড়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে অন্ধকার হয়ে যায় দুটি ইউনিয়নের গোটা কয়েকটি গ্রাম।

বানা ইউনিয়নের বাসিন্দা সোহরাব শেখ (৪৫) বলেন, বানা ইউনিয়নের শিরগ্রাম, গড়ানিয়া, পাকুড়িয়া, টাবনী, টোনাপাড়া, শিয়ালদি চরপাড়া, জয়দেবপুর, আউশির হাট, কঠুরাকান্দি, মাজপাড়া, আড়পাড়াসহ অন্তত ১২টি গ্রামে ভয়াবহ ঝড় আঘাত হানে। ঝড়ে কাঁচা-আধাপাকা ঘরবাড়ি, গাছপালা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া, ধান, গমসহ কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিড়ে গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ঝড়ে ওই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, ফসলি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া পাচুড়িয়া ইউনিয়নের যুগীবরাট, ভাটপাড়া, চাদড়া, পাচুড়িয়া, দেউলি, চরনারানদিয়া, ধুলজুড়ি, চরভাটপাড়ার ৮টি গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমার পাচুড়িয়া ইউনিয়নে ঝড়ে ৮টি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। তালিকা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে সহায়তা পাওয়া যায় কি না দেখব।

বানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ শরীফ বলেন, আমার ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিচ্ছি। ইউপির পক্ষ থেকে যতদূর পারা যায় সহায়তা করা হবে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ বলেন, গতকাল রাতের ঝড়ে বিস্তীর্ণ জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সবাই নিরাপদ আছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলফাডাঙ্গা সাব জোনাল অফিসের এজিএম ফাহিম হাসান বলেন, ঝড়ে কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিড়ে গেছে, কয়েকটি খুঁটি ভেঙেছে ও অনেকগুলো আঁকাবাঁকা হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে কাজ চলছে।

ফরিদপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এই ঝড়ে সাড়ে ৯ হেক্টর জমির পেঁয়াজ, সাড়ে তিন হেক্টর জমির সবজি, দুই হেক্টর জমির ধনিয়া, এক হেক্টর জমির ভুট্টা, পাঁচ হেক্টর জমির গম ও তিন হেক্টর জমির মসুর পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া ওই এলাকায় আর মাত্র ৭ থেকে ১০ দিন পর পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হত। কিন্তু বৃষ্টির কারণে অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে ফেলতে হচ্ছে। এসব পেঁয়াজ সংরক্ষণে অসুবিধা হবে।

এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমীন ইয়াছমীন বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা করার আশ্বাস পেয়েছি।

পুঁজিবাজার রিপোর্টে – রা/হা – ২৮ মার্চ ২০২৪।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

[ytplayer id=33256]

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১