খেলাপি ঋণ: লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ সোনালী ব্যাংক
প্রচ্ছদ » Uncategorized » খেলাপি ঋণ: লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ সোনালী ব্যাংক
পুঁজিবাজার রিপোর্ট ডেস্ক: দেশের যে এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই, সে এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করে সোনালী ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে ঋণ বিতরণের দিক থেকে ব্যাংকটির অবস্থান তৃতীয়। ২০১৯ সালে খেলাপি ঋণ আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল তা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকটি।
জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক ২০১৯ সালে ৮২০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নগদ ও ২ হাজার ৩৭৭ কোটি ১ লাখ টাকার ঋণ পুনঃতফসিলসহ মোট ৩ হাজার ১৯৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার ঋণ আদায় করেছে, যা খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ৪৮ দশমিক ১২ শতাংশ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্র্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২০১৯ সালে সোনালী ব্যাংকের জন্য ৬ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু ব্যাংকটি নগদ টাকা উদ্ধার করতে পেরেছে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
খেলাপি ঋণ আদায় চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৮ সালের তুলনায় সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায় ২০১৯ সালে কমেছে ৪৭৭ কোটি ৫৫ লাখ বা ১৩ দশমিক শুন্য ১ শতাংশ। ২০১৮ সালে ব্যাংকটি ৩ হাজার ৬৭৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা আদায় করেছিল।
সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনের কারণে অনেকে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। এছাড়া একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেক্সিমকো গ্রুপ ১ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত করেছে। সংসদ নির্বাচন চলে যাওয়ার কারণে মূলত সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায় কমে গেছে।
সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় শাখাসহ ১৫টি শাখার মধ্যে ১৪টি শাখা এক টাকাও খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারেনি।
একমাত্র রংপুর জোনাল অফিস ১৬৪ কোটি ১৬ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ আদায় করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে।
প্রতিবছর বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে চুক্তি হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। যে কারণে অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতেও ব্যর্থ হয়েছে সোনালী ব্যাংক।
একই সময়ে ব্যাংকটির জন্য ৭১০ কোটি টাকার অবলোপনকৃত ঋণ আদায় করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৪৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। হলমার্ক কেলেঙ্কারিসহ নানা অনিয়মে ব্যাংকটির অবলোপনকৃত ঋণের পরিমান ৭ হাজার ৯৪ কোটি টাকা।
সার্বিকভাবে ২০১৯ সালে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫৫৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বেড়ে সেপ্টেম্বরে দাঁড়ায় ১২ হাজার ৭৪৭ কোটি ৪ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমান ছিল ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ২৯ দশমিক ২৭ শতাংশই খেলাপি। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমান ৪৩ হাজার ৫৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
২০১৯ সালেরর সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমান ছিল ৯৩ হাজার ৮১১ কোটি ৪ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর একটিরও খেলাপি ঋণ আদায় সন্তোষজনক নয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল খেলাপি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। খেলাপি ঋণ আর যাতে না বাড়ে সেই বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে আদায় করার কঠোর নির্দেশনাও দেন।
খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়ে বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমান প্রধান ফোনে কোনা তথ্য দিতে চাননি।








