পুঁজিবাজারে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের গেজেট প্রকাশ

প্রচ্ছদ » কোম্পানি সংবাদ » পুঁজিবাজারে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের গেজেট প্রকাশ

পুঁজিবাজার রিপোর্ট প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে অবণ্টিত অবস্থায় পড়ে থাকা টাকা নিয়ে বিশেষ তহবিল গঠন সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে এই তহবিল গঠিত হবে। প্রাথমিকভাবে এই তহবিলের আকার ২০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ২৭ জুন বাংলাদেশ গভর্মেন্ট প্রেস (বিজি প্রেস) থেকে এই গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে বিএসইসি আলোচিত ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৭৭২তম নিয়মিত কমিশন সভায় ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (Capital Market Stabilization Fund) নামে ওই ফান্ড গঠন ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিধিমালা অনুমোদন করে।

গেজেট অনুসারে, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অবণ্টিত নগদ ও বোনাস লভ্যাংশ, অবণ্টিত রাইট শেয়ার, আইপিও সাবস্ক্রিপশনের অফেরত টাকা ইত্যাদি নিয়ে আলোচিত ফান্ড গঠিত হবে। তবে অবণ্টিত সব টাকা নয়, ৩ বছরের বেশি সময় ধরে অবন্টিত অবস্থায় থাকা টাকা এই তহবিলে পাঠাতে হবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে।

উল্লেখ, গ্রাহক বা বিনিয়োগকারীদের ঠিকানা পরিবর্তন, মৃত্যু, ঠিকানা ও ব্যাংক হিসাবে ভুল ইত্যাদি কারণে তাদের প্রাপ্য লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারেনি অনেক কোম্পানি। এক সময় কাগজের শেয়ার ইস্যু করা হতো। তখন বিও অ্যাকাউন্ট বা ডিপোজিটরি সিস্টেম ছিল না। তাই লভ্যাংশের চেক (Dividend Warrant), বোনাস শেয়ার, রাইট শেয়ার ইত্যাদি ডাকযোগে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পাঠানো হতো। কিন্তু ঠিকানা পরিবর্তনসহ নানা কারণে অনেকের শেয়ার সার্টিফিকেট ফেরত এসেছে, যা অবণ্টিত অবস্থায় কোম্পানিউলোতে পড়ে আছে। এগুলোর মধ্যে যা ৩ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে সেগুলো আলোচিত ফান্ড বা তহবিলে জমা দিতে হবে।

তবে তহবিলে শেয়ার বা টাকা হস্তান্তরের পরও তা দাবি করতে পারবেন সংশ্নিষ্ট বিনিয়োগকারী। নিজের দাবির প্রমাণসহ সংশ্নিষ্ট কোম্পানি বা সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি বা ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনের এক মাসের মধ্যে ওই বিনিয়োগকারীর শেয়ার বা টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

তহবিল থেকে বাজারের মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার কেনাবেচা করা তথা বিনিয়োগের জন্য স্বল্প মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে। শেয়ার কেনাবেচা করতে গিয়ে যাতে তহবিলের কোনো লোকসান না হয়, তার জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন করা হবে, থাকবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও অডিট কমিটি।

আলোচিত তহবিল পরিচালনায় ১১ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নস থাকবে। যার মধ্যে একজন চেয়ারম্যান ও তিন জন সদস্য থাকবেন, যাদের মনোনীত করবে বিএসইসি।

বোর্ড অব গভর্নসে বিএসইসি থেকে ৪ জন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) থেকে একজন করে মনোনীত সদস্য থাকবেন।

এছাড়াও একজন প্রফেশনাল চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বা কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট বা চার্টার্ড সেক্রেটারি বা চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট এবং একজন চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) থাকবেন।

পুঁজিবাজার রিপোর্ট – আ/ব/সি/ ০১ জুলাই , ২০২১।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Live Video

[ytplayer id=33256]

সম্পাদকীয়

অনুসন্ধানী

বিনিয়োগকারীর কথা

আর্কাইভস

July ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১