বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ এম হুমায়ুন মাহমুদ আর নেই
প্রচ্ছদ » আর্ন্তজাতিক » বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ এম হুমায়ুন মাহমুদ আর নেইনূর এ আলম সিদ্দিক: করোনায় আক্রান্ত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক সিনেট সদস্য বির্ষীয়ান নেতা অধ্যক্ষ এম হুমায়ুন মাহমুদ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিলো ৫৭ বছর।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
গত মাসে তিনি করোনায় আক্রান্ত হলে প্রথমে বারডেম হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে সর্বশেষ পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসলেও মৃত্যু তার পিছু ছাড়েনি। আত্মীয় স্বজন ও ডাক্তারদের সকল চেস্টা ব্যর্থ করে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
প্রথম জানাজা শুক্রবার সকাল ৯টায় ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেন জামে মসজিদে(লেডিস ক্লাবের পাশে) সংলগ্ন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা দেবিদ্বারের মোহাম্মদপুর সেরাজুল হক কলেজ মাঠে বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। পরে কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলা মোহাম্মদপুর নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
জন্ম ও মৃত্যুঃ
১৯৫৬ সালের ২৬ জুন জন্ম গ্রহন ও ২০২০ সালের ৫ই নবেম্বর মৃত্যু বরন করেন। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছে ৫৭ বছর।
জীবদ্দশার ইতিহাসঃ
আওয়ামীলীগের বর্ষিয়ান নেতা হুমায়ুন মাহমুদের ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় কুমিল্লা জিলা স্কুলের ছাত্র। দেশকৃষ্ট আন্দোলনে তার আর একজন বন্ধু একসময়ের বিএনপির নেতা ব্যারিষ্টার আল মামুন আহ্বায়ক, হুমায়ুন মাহমুদকে সদস্য সচিব করে জিলা স্কুল থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির আন্দোলনের মাধ্যমে তার রাজনীতির হাতেখড়ি। তার ছাত্র রাজনীতির দুই অবিভাবক নাজমুল হাছান পাখি,এডভোকেট রুস্তম আলীর নেতৃত্বে ছাত্র লীগে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষন শুনতে নাজমুল হাছান পাখি ও রুস্তম আলীর নেতৃত্বে বাবার অবাধ্য হয়েই চলে যায়। ফিরে এসে রেসকোর্স ময়দান হতে, যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয় কুমিল্লা জেলা ছাত্র লীগের নেতারা। ততকালীন ডিসি শামছুল হক সাহেবের বাংলোর পাশে জেসিসির গাধারায়ফেল দিয়ে ট্রেনিং শুরু সেখানে ট্রেনিং নেন তার দুই ছাত্র লীগের নেতার কাছে হুমায়ুন মাহমুদ। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পিতামাতার সাথে কুমিল্লা শহর হতে চলে আসে বাড়ি দেবিদ্বার উপজেলা মোহাম্মদপুরে। পরে চলে যান নানার বাড়ি পোনরা শেখ বাড়িতে। নানা শেখ আঃ জব্বার ছিলেন দেবিদ্বার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। নানার বাড়িতে মামাতো ভাই শেখ আঃ আউয়াল, শেখ সফিউল্লাহ, আরো খালাতো ভাইদের নিয় শরনার্থীশিবির খুলে মুক্তির আন্দোলনের ভুমিকা রাখে হুমায়ুন মাহমুদ। যার পরোক্ষ সাক্ষী ন্যাপ গেরিলাযোদ্ধা মোস্তাকুর রহমান ফুলমিয়া স্যার।
১৯৭২সালে এসএসসি পাস করে ভর্তি হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচন করেন।পুরো প্যানেল হেরে যান জাসদ ছাত্রলীগের নিকট। কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে গিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বরুড়ার সাবেক এম পি নুরুল ইসলাম মিলন এবং তার পরবর্তী ছাত্রলীগের সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরী,মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, খ ম জাহাঙ্গীর, ওবায়দুল কাদের বহালুল মজনুন চুন্নুদের সান্নিধ্যে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে। ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য হন। তারপর সিনেটর সদস্য হন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস হন। কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্যও হন। একটা সময়ে আওয়ামী লীগের দুর্দিনে জননেতা আঃ আজিজ খান সাহেব সহ ততকালীন দেবিদ্বারের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ হুমায়ুন মাহমুদকে দেবিদ্বার আওয়ামী লীগের হাল ধরতে বলেন। সেসময়ে তিনি পরিস্কার জানিয়ে দেয় যতদিন আমার নানা আঃ আজিজ খান সাহেব বেঁচে থাকেন ততদিন দেবিদ্বারের রাজনীতিতে আসব না।
মরহুম আঃ আজিজ খান সাহেবের মৃত্যুর পর ততকালীন আওয়ামী লীগের নেতাদের কথায় ছুটে আসেন দেবিদ্বার আওয়ামী লীগের হাল ধরতে।মাননীয় নেত্রীর নির্দেশে ততকালীন কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগ তরুণ বয়সে দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব দেন।সেই থেকে দেবিদ্বারের আওয়ামী লীগ নিয়ে পথ চলা,আঃ মতিন মুন্সি, এডভোকেট জানে আলম, মতিন সরকার, লতিফ সরকার, এডভোকেট নিজামুল হক,আমিন আহাম্মদ মন্টু, মনির মাষ্টার, অধ্যক্ষ আঃ জলিল ভূইয়া,জয়নুল আবেদিন মাষ্টার, আলহাজ্ব জয়নুল আবেদীন শেখ আঃ আউয়াল ,আঃ আলিম, ছিদ্দিকুর রহমান ভূইয়া,আনোয়ার হোসেন খোকন, বাহার, লুতফুর রহমান বাবুল, জলিল চৌধুরী ভিপি কামালসহ আরো কিছু নেতাদের নিয়ে প্রথমে ছাত্রলীগের পুনর্গঠনে হাত দেন। উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করেন।
সেই সময় দেবিদ্বারের রাজনীতি ছিল কলেজ ছাত্র সংসদকে ঘিরে। খলিল-কবির পরিষদ, কামাল- মোর্শেদ- নাঈম পরিষদ, কামাল- মজনু- মফিজ-পরিষদ, মনির- হেলাল মান্নান পরিষদ, ফয়েজ-সেলিম- খোকন পরিষদ, সেলিম- মফিজ মাইনুল পরিষদ,
মজিব-নিশাদ-বাবুল পরিষদসহ সব কটা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে হুমায়ুন মাহমুদ টাকা, তার গার্মেন্টসের জামা কাপড় দিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করিয়েছে। মেঘ বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘুরে ঘুরে ভোট চেয়েছে ছাত্রলীগের প্যানেলের জন্য। অসংখ্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাদের দেবিদ্বারে এনেছে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করতে। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে ততকালীন আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটি গঠন করেন। অনেক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের দেবিদ্বারে এনেছে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী করতে।
পরবর্তীতে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম তিনি। স্ত্রী সন্তান ব্যবসা বানিজ্য সব ফেলে সারাক্ষণ আওয়ামী লীগ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন।
এদিকে, তার মৃত্যুর খবর পেয়ে কুমিল্লা জেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছাঁয়া। সকাল থেকে তার বাড়িতে ভিড় করছেন তার শুভানুধ্যায়ীরা।
আওয়ামীলীগ ও বিএনপির শোক প্রকাশ:বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন কুমিল্লা ৪ দেবিদ্বার আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের পক্ষ থেকে দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জয়নাল আবদীন ও দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সাবেক ৪ বারের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির পক্ষ থেকে শোক বার্তা পাঠান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন।
পুঁজিবাজার রিপোর্ট – আ/ব/সি/ ৫ নবেম্বর , ২০২০।








